শ্রমিকের মজুরি থেকে মজুরী কর্তন বা মজুরি বিলম্ব হলে তা আদায়ের প্রক্রিয়া

শ্রমিকের মজুরি থেকে মজুরী কর্তন বা মজুরি দিতে দেরি হলে তা আদায়ের প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া হলোঃ

১. অভিযোগ কখন করা যাবে?

যদি কোনো শ্রমিকের সাথে নিচের ঘটনাগুলো ঘটে, তবে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেনঃ

  • আইনবহির্ভূতভাবে মজুরি থেকে কোনো টাকা কেটে রাখা হলে
  • মজুরি ঠিকমতো পরিশোধ না করা হলে
  • গ্র্যাচুইটি বা ভবিষ্যৎ তহবিলের (Provident Fund) টাকা দিতে দেরি করা হলে

২. কারা আবেদন করতে পারবেন?

মজুরি বা বকেয়া আদায়ের জন্য শ্রম আদালতে আবেদন করতে পারবেন:

  • সংশ্লিষ্ট শ্রমিক নিজে
  • শ্রমিক মারা গেলে তার কোনো উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধি
  • সরকার নিযুক্ত কোনো পরিদর্শক (Inspector)

৩.  আবেদন এর সময়সীমা ও স্থান

  • মজুরি কাটার তারিখ বা মজুরি দেওয়ার কথা ছিল এমন তারিখ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণে দেরি হলে আদালত ১২ মাস পরেও আবেদন গ্রহণ করতে পারে
  • শ্রমিক যেখানে কাজ করতেন বা যেখানে মজুরি দেওয়ার কথা ছিল, সেই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম আদালতে আবেদন করতে হবে

৪. আদালতের বিচার প্রক্রিয়া

  • আবেদন পাওয়ার পর আদালত মালিক পক্ষ এবং শ্রমিক উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ দেবেন।  প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন
  • অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, বকেয়া মজুরি বা কেটে রাখা টাকা শ্রমিককে ফেরত দেওয়ার জন্য মালিককে নির্দেশ দেবেন

৫. অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ

আদালত চাইলে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশের পাশাপাশি মালিককে আরও একটি নির্দেশ দিতে পারেন। সেটি হলো— বকেয়া মজুরির সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ (শতকরা ২৫ ভাগ) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ শ্রমিককে দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। 

যদি কোনো শ্রমিকের পাওনা টাকা মালিক দিতে দেরি করেন বা কর্তন করেন, তবে ১ বছরের মধ্যে শ্রম আদালতে অভিযোগ করে পাওনা টাকা এবং প্রয়োজনে ২৫% পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব 

সূত্রঃ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩২ ধারা

Post a Comment

Previous Post Next Post