HR শুধু সাপোর্ট ভূমিকা নয়—এটি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের একটি প্রকৃত কৌশলগত অংশীদার। তবুও, অনেক প্রতিষ্ঠান HR-কে শুধু নিয়োগ, ছুটি, বেতন বা কাগজপত্র সামলানোর দপ্তর হিসেবে দেখে। কিন্তু সত্যি বলতে, আজকের ব্যবসা আর এইভাবে চলে না। HR-ই আপনার মানুষের, সংস্কৃতির এবং আপনার দলের কর্মদক্ষতার প্রকৌশলী।
একটা কোম্পানি কতদিন
টিকবে সেটা নির্ভর করে তার লোকজন,
লিডারশিপ, কাজের ধরণ আর পরিবেশের ওপর। আর HR এই সবকিছুর মাঝখানে থাকে।
১. ভালো লোক
নিন, শুরুটা দারুণ
হবে
প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল ভিত্তি হলো মানুষ। HR এর কাজ হল আসল লোকটি নেওয়া,
যে
কাজটা করতে পারবে, অফিসের
পরিবেশের সাথে মিশে যেতে পারবে আর ভবিষ্যতে লিডার হওয়ার যোগ্যতা রাখবে।
ভুল লোক নিলে কাজের
স্পিড কমে যাবে, ট্রেনিং-এর খরচ
বাড়বে, টিমের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে অসুবিধা হবে, আর বারবার লোক নিতে হবে।
কিন্তু ভালো করে লোক নিতে পারলে,
কোম্পানি
একটা লম্বা দৌড়ের জন্য তৈরি হয়ে যাবে।
২. কাজের
পরিবেশটা জম্পেশ করুন
কাজের পরিবেশ সবকিছু
ঠিক করে দেয়—লোকে কতটা মন দিয়ে কাজ করছে,
টিমগুলো
কেমন একসাথে কাজ করছে, লিডারশিপ কতটা
শক্তিশালী, আর কর্মীরা
থাকবে নাকি চলে যাবে।
HR কর্মীর মনের জানালা খুলে, ঝগড়াঝাঁটি কমিয়ে, বিভিন্নতা আর আপন করে নেওয়ার মানসিকতা
তৈরি করে, আর কাজের
পরিবেশটাকে পজিটিভ রাখে। একটা সুন্দর পরিবেশ ভালো লোকজনকে ধরে রাখে।
৩. কর্মীদের
আরও বেশি কাজের করে তুলুন
ব্যবসা খুব তাড়াতাড়ি
বদলে যায়। কর্মীরা যদি নতুন জিনিস না শেখে,
তাহলে
কোম্পানি পিছিয়ে যাবে।
HR দেখে কোথায় ট্রেনিং দরকার, সেই অনুযায়ী ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করে, লিডার তৈরি করে, আর ভবিষ্যতের জন্য লিডারদের খুঁজে বের করে।
যারা দক্ষ, তারা তাড়াতাড়ি কাজ করতে পারে, ভুল কম করে আর বেশি কাজ করে।
৪. নিয়মকানুন
মেনে চললে রিস্ক কম
একটা কোম্পানি তার
নিয়ম-নীতির ওপর নির্ভর করে চলে। HR
নিয়ম
বানায়, কাজের গাইডলাইন ঠিক করে, ন্যায্য বিচার করে, আর অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা করে। সত্যি কথা
হল, আইন মেনে চললে কোম্পানি
নিরাপদ থাকবে।
৫. কর্মীদের
মনে সাহস জোগান ও ধরে রাখুন
মানুষ শুধু বেতনের জন্য
কাজ করে না। তারা চায় তাদের কাজের দাম দেওয়া হোক, তারা যেন আরও উন্নতি করতে পারে আর সবাই যেন তাদের
সম্মান করে।
HR দেখে কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন ঠিকমতো
হচ্ছে কিনা, পুরষ্কারগুলো
কাজের সাথে মানানসই কিনা, কেরিয়ার
প্ল্যানিং ঠিক আছে কিনা, আর কাজের
স্পৃহা বজায় আছে কিনা। যাদের মনে সাহস আছে,
তারা
বেশি কাজ করে, কামাই কম করে, আর কোম্পানিতে বেশি দিন থাকে।
৬. লিডার ও
ম্যানেজারদের আরও উন্নত করুন
দুর্বল লিডারশিপ থাকলে
ভালো কোম্পানিও ডুবে যেতে পারে। HR
লিডারশিপ
ট্রেনিং দেয়, ব্যবস্থাপনার
কাজ শেখায়, কাজের স্পিড
বাড়ানোর জন্য ট্রেনিং দেয়, আর কঠিন
সিচুয়েশনে হেল্প করে। শক্তিশালী লিডার থাকলে কোম্পানি যেকোনো সময়ের জন্য তৈরি
থাকে।
৭.
অ্যানালিটিক্স দিয়ে স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিন
এখনকার HR শুধু আন্দাজে কাজ করে না। তারা ডেটা দেখে
সিদ্ধান্ত নেয়। কেন মানুষ চাকরি ছাড়ে সেটা বিশ্লেষণ করা, কাজের স্পিড নজরে রাখা, কর্মীদের মতামত নেওয়া অথবা লোকবলের
পরিকল্পনা করা—ডেটা দেখে HR চললে কোম্পানি
ঠিক পথে থাকে।
৮. কাজের
গভীরে গিয়ে চিন্তা করুন
HR শুধু একটা হেল্প ডেস্ক নয়—HR হলো ব্যবসার চালিকাশক্তি।
যন্ত্রপাতি হয়তো
প্রোডাকশন চালায়, কিন্তু আসল
প্রোডাকশন আসে মানুষের হাত থেকে।
ফাইন্যান্স টাকাপয়সা
দেখে, কিন্তু দক্ষ কর্মীরাই
আসল ভ্যালু তৈরি করে।
মার্কেটিং আপনার
ব্র্যান্ড তৈরি করে, কিন্তু মানুষের
কাজই সেই ব্র্যান্ডকে বাঁচিয়ে রাখে।
মনে রাখবেনঃ
একটা প্রতিষ্ঠান শুধু
বিল্ডিং, মেশিন বা টেকনোলজি
দিয়ে বড় হয় না। বড় হয় তার মানুষ,
কাজের
পরিবেশ আর লিডারশিপ দিয়ে। আর এই তিনটির প্রধান শক্তি হলো HR।
হ্যাঁ, HR ছাড়াও হয়তো একটু উন্নতি করতে পারবেন।
কিন্তু সেটা বেশি দিন টিকবে না।
যদি চান কোম্পানি দীর্ঘকাল টিকে থাকুক, তাহলে HR-কে শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই।
