শ্রম আইনে 'ব্ল্যাক লিস্টিং' বা কালো তালিকাভুক্তিকরণঃ আইনি সংজ্ঞা ও মালিকের জন্য নিষেধাজ্ঞা


বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫-“ব্ল্যাক লিস্টিং” এর সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। ধরুন, কেউ চাকরি হারিয়েছেকারণ যাই হোক, তবু তার আবার কোথাও কাজ পাওয়ার অধিকার আছে। মালিকরা যদি তালিকা তৈরি করেন, বরখাস্তকৃতদের বা চাকুরী ত্যাগকারীদের জন্য নতুন চাকরির দরজা বন্ধ করে দেন, তাহলে সেটা সরাসরিঅনুচিত শ্রম আচরণ’ হিসাবে গণ্য হবে। আসুন দেখি কি বলা হয়েছে ৭৮ নম্বর সংজ্ঞায় -

·    এটি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের মালিক বা মালিকদের কোনো সংগঠন দ্বারা গৃহীত কার্যক্রম

  • কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ছাঁটাইকৃত, ডিসচার্জ হওয়া, বরখাস্ত হওয়া, পদত্যাগ করা বা অবসর নেওয়া যেকোনো শ্রমিক (এমনকি সাময়িক বা বদলি শ্রমিকও এর অন্তর্ভুক্ত)
  • কারও চাকরি চলে যাওয়ার পর যেন সে আর কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কাজ না পায়, এই উদ্দেশ্যেই তাকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হয়। 
  • এই অযোগ্যতার জন্য নামের তালিকা বানানো বা কোনো ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করলেই সেটা ‘ব্ল্যাক লিস্টিং’।

এছাড়াও ধারা ১৯৫ (ড) তে “মালিকের পক্ষ অসৎ শ্রম আচরণ” অংশে মালিকের জন্য একটি কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছেঃ

  • যদি কোনো শ্রমিকের চাকরির অবসান ঘটে (সেটা যে কারণেই হোক না কেন) অথবা যদি তিনি কোনো ইউনিয়নের সদস্য হন, তবে মালিক তাকে 'ব্ল্যাক লিস্টিং' করতে পারবেন না
  • মালিক কোনো নোটিশ জারি করে বা ডাটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত করে ওই শ্রমিককে ভবিষ্যতে অন্য কোথাও চাকরি পেতে বাধা দিতে পারবেন না

এখনকার দিনে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে রাখা হয়, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সোজা কথাতথ্য রাখা যাবে, কিন্তু কাউকে ইচ্ছা করেব্ল্যাক লিস্টকরে তার কাজ পাওয়ার রাস্তা বন্ধ করা পুরোপুরি বেআইনি

Post a Comment

Previous Post Next Post