বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২(৬৭) অনুযায়ী "সম্পূর্ণ অক্ষমতা" বলতে কী বোঝায় তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর মূল পয়েন্টগুলো হলোঃ
- সংজ্ঞাঃ
দুর্ঘটনার কারণে যদি কোনো শ্রমিক স্থায়ীভাবে তার কাজ
করার সম্পূর্ণ সক্ষমতা হারান, তাহলে সেটিকে বলা হয় স্থায়ী
সম্পূর্ণ অক্ষমতা (Permanent
Total Disablement).
- প্রকৃতিঃ
এটি স্থায়ী (Permanent) বা অস্থায়ী (Temporary)
উভয় প্রকৃতির হতে পারে। অর্থাৎ একেবারে তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে যেতে পারে, অথবা
কিছু দিনের জন্য কর্মক্ষমতা হারিয়ে যেতে পারে।
- কারনসমূহঃ
- গুরুতর কারখানা দুর্ঘটনা
- মেশিনে আঘাত লেগে
স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি
- কর্মকালীন সময়ে ব্যবহৃত
রাসায়নিক দ্রব্যের প্রতিক্রিয়া
- কাজের সাথে সম্পৃক্ত
কোনো দূষণের ফলে স্বাস্থ্যহানি
- বিশেষ শর্তঃ
কিছু ক্ষেত্রে আইন সরাসরি ধরে নেয় যে শ্রমিক স্থায়ী
পূর্ণ অক্ষম হয়েছেন। যেমনঃ
- দুই চোখ হারানো সরাসরি "স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা" হিসেবে গণ্য করা হবে।
- প্রথম তফসিলে বর্ণিত এমন
আঘাত যা মিলিয়ে ১০০% উপার্জন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় অর্থাৎ,
যদি আঘাতের কারণে শ্রমিকের আয়ের ক্ষমতা পুরোপুরি
(১০০%) নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তাকে স্থায়ী
পূর্ণ অক্ষম হিসেবে গণ্য করা হবে।
প্রথম তফসিলে ১০টি শারিরিক অংগহানিকে সরাসরি
১০০% স্থায়ী সর্ম্পর্ণ অক্ষমতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তালিকাটি নিচে সহজভাবে দেওয়া হলোঃ
|
ক্রমিক নং |
আঘাতের বিবরণ |
ক্ষতির হার (%) |
|
১ |
উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারানো |
১০০% |
|
২ |
উভয় পা গোড়ালি বা তার ওপর থেকে হারানো |
১০০% |
|
৩ |
উভয় হাত কব্জি বা তার ওপর থেকে হারানো |
১০০% |
|
৪ |
স্থায়ী মস্তিষ্ক ক্ষতির ফলে মানসিক অক্ষমতা (যা উপার্জনে অক্ষম করে) |
১০০% |
|
৫ |
মুখমণ্ডলের গুরুতর বিকৃতি |
১০০% |
|
৬ |
কোয়াড্রিপ্লেজিয়া (চার অঙ্গের পক্ষাঘাত) |
১০০% |
|
৭ |
প্যারাপ্লেজিয়া (নিম্নাংশের পক্ষাঘাত) |
১০০% |
|
৮ |
হেমিপ্লেজিয়া (শরীরের অর্ধাংশের পক্ষাঘাত) |
১০০% |
|
৯ |
এক হাত বা এক পা সম্পূর্ণ হারানো |
১০০% |
|
১০ |
সম্পূর্ণ বধিরতা (শ্রবণশক্তি হারানো) |
১০০% |
Labels:
শ্রম আইন ও বিধি
