বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২০২৫ সালের সংশোধনীতে “জবরদস্তিমূলক শ্রম” বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং আইনি কাঠামো হয়েছে আরও সুসংহত। নিচে বিষয়টি সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো—
১.
জবরদস্তিমূলক শ্রমের সংজ্ঞা (ধারা ১২ক)
আইন
অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির
ইচ্ছা বা সম্মতি ছাড়া, শাস্তির ভয়
দেখিয়ে বা শোষণমূলক উপায়ে তার কাছ থেকে কাজ বা সেবা আদায় করাকে জবরদস্তিমূলক বা
বাধ্যতামূলক শ্রম বলা হয়। এই সংজ্ঞাটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২. যেসব
ক্ষেত্রে জবরদস্তিমূলক শ্রম হিসেবে গণ্য হবে না (ব্যতিক্রম)
সব
ধরনের বাধ্যতামূলক কাজ আইনত জবরদস্তি নয়। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ব্যতিক্রম
হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
- সামরিক সেবাঃ জাতীয় প্রয়োজনে
বা দুর্যোগের সময় সামরিক বাহিনীর অধীনে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ।
- নাগরিক দায়িত্বঃ সাধারণ সামাজিক বা
রাষ্ট্রীয় সেবামূলক কাজ।
- কয়েদিদের শ্রমঃ আদালতের আদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাজ। তবে শর্ত
হলো—এই কাজ কোনো বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে করানো যাবে না; এটি সরকারি
তত্ত্বাবধানে হতে হবে।
- জরুরি পরিস্থিতিঃ যুদ্ধ, অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প বা
মহামারীর মতো পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্যতামূলক সেবা।
- সামাজিক কল্যাণমূলক কাজঃ সমাজের স্বার্থে
প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে স্বল্প পরিসরের সেবামূলক কার্যক্রম।
৩.
জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ (ধারা ৩৪৫গ)
এই
ধারা অনুযায়ী—
- কোনো ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক
শ্রমে নিয়োজিত করতে পারবেন না।
- এমন কাজে সহায়তা করাও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
৪. শাস্তির
বিধান (ধারা ৩০৭খ)
যদি
কেউ ধারা ৩৪৫গ লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে
ন্যূনতম ২০,০০০ টাকা থেকে
সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা
পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
আগে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করার জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরি করা হলেও, সেগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এখন যেহেতু বিষয়টি সরাসরি আইনের মধ্যে সংযোজিত হয়েছে, তাই এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
