কিছু মানুষ মনে করেন এ দুটি শব্দ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। কিন্তু যারা এই খেলাটা মাঠে খেলেছেন, তারা জানেন—পার্থক্যটা অনেক গভীর।
Recruitment: আজকের চাহিদা, আজকের সমাধান
Recruitment মানে প্রয়োজন। জরুরি। এখনই চাই।
কোম্পানিতে
একজন সুপারভাইজার রিজাইন করলো। লাইন থেমে আছে। প্রোডাকশন ম্যানেজার ফোন করছেন
প্রতি ঘণ্টায়। এই অবস্থায় HR যা করে, তাই Recruitment। পোস্ট দেওয়া, CV বাছাই করা, ইন্টারভিউ, অফার, জয়েনিং।
কাজ শেষ।
এটি transactional। প্রক্রিয়াগত। কার্যকরী, ঠিক। কিন্তু স্বল্পমেয়াদী।
Talent
Acquisition: আগামীর জন্য বীজ বপন
Talent
Acquisition ভাবতে বসে—"আমাদের কোম্পানি পাঁচ বছর পর কোথায়
যেতে চায়?
সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে কী ধরনের মানুষ দরকার?"
এটি strategic। দীর্ঘমেয়াদী। সম্পর্কনির্ভর।
এখানে
শুধু খালি পদ পূরণ হয় না। তৈরি হয় ট্যালেন্ট পুল। গড়ে ওঠে employer brand। ছড়িয়ে দেওয়া হয় একটি বার্তা—"এই কোম্পানিতে কাজ
করতে চাই।"
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনটি বেশি জরুরি?
বাস্তব
কথা—দুটোই। কারণ আমাদের বেশিরভাগ কোম্পানি এখনো "লোক দরকার, এখনই"
এই মোডে চলে। তবে যারা বাজারে টিকে থাকতে চায়, তাদের বুঝতে হবে:
শুধু Recruitment করলে,
আপনি প্রতিযোগিতায় এক ধাপ পিছিয়ে থাকবেন। কারণ সেরা
মানুষরা চাকরি খোঁজেন না। তাদের খুঁজতে হয়। আকৃষ্ট করতে হয়। ধরে রাখতে হয়।
ধরুন, একটি
গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি। প্রতি মাসে ৫০ জন অপারেটর লাগে।
যদি শুধু Recruitment করা হয়—গেটে বিজ্ঞাপন, লোক
নেওয়া, ট্রেনিং, কাজে লাগানো। তিন মাস পর অর্ধেক চলে যায়। আবার নতুন করে নিতে
হয়। যাওয়া আসার খেলা।
অন্য
একটি কোম্পানি Talent Acquisition এর পথে হাঁটে। স্থানীয়
এলাকায় স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার খোলে। মহিলাদের সেলাই শেখায়। তাদের সাথে
সম্পর্ক গড়ে। সহজে ছেড়ে চলে যায় না। কারণ লয়্যালটি তৈরি
হয়েছে।
শেষ কথা
Recruitment আগুন নেভায়। Talent Acquisition আগুন যেন না লাগে, সেই
ব্যবস্থা করে।
যে
কোম্পানি শুধু আজকে বাঁচতে চায়, সে রিক্রুইটমেন্টে খুশি। যে কোম্পানি আগামী
দশ বছরের কথা ভাবে,
সে Talent Acquisition এ বিনিয়োগ করে।
