বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধন ২০২৬ — সারসংক্ষেপ

প্রকাশের তারিখ: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জারিকারী: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আইন শাখা এস.আর.ও. নং: ৫৩-আইন/২০২৬

মূল বিষয়

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ৩৫১ এর ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এ নতুন বিধি ২২৬ক থেকে ২২৬ঠ পর্যন্ত সংযোজন করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো তেল ও গ্যাস খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর জন্য একটি পৃথক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল গঠন করা

প্রধান বিধানসমূহ:

১. তহবিল গঠন (ধারা ২(ক))

  • একটি কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করা হবে যার নাম "Beneficiaries' Profit Participation Central Fund (BPPCF)"
  • এই তহবিলে সকল প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মচারীদের লাভাংশের অংশ জমা করবে

২. তহবিল পরিচালনা বোর্ড (ধারা ২(খ))

  • একটি বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ গঠন করা হবে
  • বোর্ডের গঠন:
    • চেয়ারম্যান: শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব
    • সদস্য: অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি
    • কর্মচারী প্রতিনিধি: ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা

৩. লাভাংশ বণ্টনের হার (ধারা ২(গ))

  • প্রতিষ্ঠানের নিট লাভের ৫% কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে
  • এই অর্থ BPPCF-এ জমা করা হবে

৪. তহবিলের উৎস (ধারা ২(ঘ))

  • শ্রমিকদের লাভাংশের অংশ
  • সরকারি অনুদান
  • তহবিলের বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়
  • অন্যান্য বৈধ উৎস

৫. তহবিলের ব্যবহার (ধারা ২(ঙ))

  • কর্মচারীদের মধ্যে লাভাংশ বণ্টন
  • কর্মচারীদের কল্যাণমূলক কাজ
  • তহবিল পরিচালনার খরচ

৬. হিসাব রাখা ও নিরীক্ষা (ধারা ২(চ))

  • সঠিক হিসাব রাখতে হবে
  • চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা বার্ষিক নিরীক্ষা
  • নিরীক্ষা রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দিতে হবে

৭. বিশেষ ক্ষমতা (ধারা ২(ছ))

  • সরকার প্রয়োজনে বিশেষ নির্দেশনা দিতে পারে
  • তহবিলের অর্থ সরকারি স্বার্থে ব্যবহার করা যেতে পারে

১. কর্মচারী কল্যাণ: শ্রমিকদের প্রতিষ্ঠানের লাভে অংশীদার করা ২. সামাজিক নিরাপত্তা: কর্মচারীদের জন্য একটি স্থায়ী তহবিল গঠন ৩. শিল্প শান্তি: শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়ন ৪. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার: লাভের ন্যায্য বণ্টন

 

Post a Comment

Previous Post Next Post